ঘরে এসি লাগানো আগে জেনে নিন


    আধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে এয়ারকন্ডিশনার বেছে নেয়ার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। আপনার দৈনন্দিন জীবনে এটি আপনার প্রয়োজনীয় শীতলতা এবং প্রশান্তি নিশ্চিত করবে। এখন বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি কাঁচামাল এয়ারকন্ডিশনার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এখন এয়ারকন্ডিশন সব সময় নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব, কম শব্দ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী,  উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরাপদ। আমার এই টপিকসটি পড়লে যানতে পারবেন এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি নির্দেশনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় সঠিক দিক নির্দেশনা।


    এয়ারকন্ডিশন সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো

    Inverter Technology - বর্তমান যুগের সর্বাধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ইনভার্টার এসি। ইনভার্টার এসি কম্প্রেসারের স্পিড প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি করে রুম দ্রুত ঠান্ডা করে এবং রুমের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখে। ইনভার্টার এসিতে সর্বোচ্চ ৬০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং সর্বনিম্ন ১৪০ ভোল্টেজে চলতে সক্ষম।

    lonizer - এসি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় Negative lon জেনারেট করে। এই Negative lon রুমের বাতাসে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, ধোঁয়া দুর্গন্ধমুক্ত করে রুমের বাতাসকে বিশুদ্ধ করে এবং অ্যাজমা দূর করতে সাহায্য করে Negative lon বাতাসের সঙ্গে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। HEALTH বাটন চেপে lonizer অন-অফ করা হয়।

    Internet of Things - এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো loT. ইন্টারনেট-জগতে এটি সর্বোচ্চ প্রযুক্তি। Smart AC-তে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। Smart AC-টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে Control করা যায় এবং Power Monitor Bill Calculation করা যায়।

    Higher cOP: Higher cOP-অর্থ হলো Higher Cooling Output with less Input Power. বর্তমান বাজারে এয়ারকন্ডিশনারের COP সবচেয়ে বেশি। এয়ারকন্ডিশনারে ব্যবহার করা হয় 'Inner grove' কপার টিউব, যা তাপ বিনিময়কে উন্নত করে কুলিং ক্যাপাসিটি এবং COP বৃদ্ধি করে। এয়ারকন্ডিশনারের COP অনেক বেশি হওয়াতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

    Wide Voltage Range -  বাংলাদেশের Power Sector বিবেচনা করে এসির Control Board এমনভাবে Design করা হয়েছে, যা Low Voltage High Voltage- চলতে পারে। Inverter এসিতে Voltage Range 140V থেকে 264V. Automatic 4Way Swing; এয়ারকন্ডিশনারে রয়েছে 'Automatic 4Way Swing' যা কক্ষের চারদিকে সুষমভাবে দ্রুত ঠান্ডা ছড়ায়। ফলে কক্ষের প্রতিটি জায়গায় থাকা প্রত্যেকটি ব্যক্তি সমান হারে ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করতে পারে।

    Fast Cooling/Turbo -  ইনভার্টার এয়ারকন্ডিশনারে আছে 'Fast Cooling/Turbo' ফিচার, যা কক্ষের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকলেও খুব তাড়াতাড়ি (- মিনিটের মধ্যে) কক্ষের তাপমাত্রা কমিয়ে নিয়ে আসে।


    আরও পড়ুন >> প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে থার্ড পার্টি কল রেকর্ডার


    Environment Friendly - এয়ারকন্ডিশনারের মধ্যে ব্যবহার করা হয় পরিবেশবান্ধব R410a গ্যাস যা পরিবেশ মানুষের কোন ক্ষতি করে না।

    No Yellowish - এয়ারকন্ডিশনারে উন্নত মানের প্লাস্টিক রেজিন Masterbatch ব্যবহার করা হয় যা বিভিন্ন আলট্রাভায়ােলেট রশ্মি প্রতিরোধক। এজন্য দীর্ঘদিন এসি ব্যবহার করলেও হলদে রং হওয়া রোধ করে এবং এয়ারকন্ডিশনার থাকে নতুনের মতো।

    Silent operation - উন্নত Design-এর জন্য ওয়ালটন এসিতে শব্দ অনেক কম হয়। ছাড়া বিশেষ স্থান ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য এসিতে বিশেষ Silent Mode আছে। এই Mode- বাতাসের প্রবাহ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যাতে শব্দ সর্বনিম্ন হয়।

    Auto Room Cleaner - এসিতে বিশেষ Air Filter Net ব্যবহার করা হয় যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতাসের ভাসমান সূক্ষ্ম ধুলাবালি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এই Air Filter Net প্রয়োজন অনুসারে পরিষ্কার করতে হয়।

    ঘরে এসি লাগানো আগে জেনে নিন


    রুম সাইজ অনুযায়ী সঠিক পরিমান এসি ক্রয়

    রুমে এসি ব্যবহারে সঠিক পরিমান

     

    রুমে এসি ব্যবহারে সঠিক পরিমান

    কম সাইজের ক্ষেত্রে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন এসি ব্যবহার করা উত্তম।

    ১। রুমের দৈর্ঘ্য ১২ ফুট, প্রস্থ ১২ ফুট উচ্চতা ১০ ফুট হলে রুমের সাইজ হবে (১২ x ১২ x ১০ = ১৪৪০) ১৪৪০ ঘনফুট অর্থাৎ এক্ষেত্রে 18000 BTU (5275 WATTS) মডেলের এসি আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।

    ২। রুমের দৈর্ঘ্য মিটার, প্রস্থ মিটার উচ্চতা মিটার হলে রুমের সাইজ হবে ( x x = ৪৮) ৪৮ ঘনমিটার অর্থাৎ এক্ষেত্রে 18000 BTU (5275 WATTS) মডেলের এসি আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।

     

    নিরাপত্তার পূর্ব নির্দেশনা

    এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের পূর্বে নিরাপত্তার জন্য পূর্ব নির্দেশনা থাকা জরুরী।

    ১। ভেজা হাত অথবা অন্য কোন ভেজা মাধ্যম দিয়ে সুইচ অথবা ইলেকট্রিক কানেকশন ধরবেন না, এতে ইলেকট্রিক শক হতে পারে।

    ২। এয়ার আউটলেটের ভেতর দিয়ে কখনোই হাত বা অন্য কিছু প্রবেশ করাবেন না। ভেতরের এবং বাহিরের উভয় সেটই উচ্চ গতির ফ্যান দ্বারা সজ্জিত। ঘূর্ণনরত ফ্যানে হাত লাগলে আপনি আহত হতে পারেন

    ৩। কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যেমন: পোড়াগন্ধ, ধোঁয়া, বিকট শব্দ শুনলে এয়ারকন্ডিশনার তৎক্ষণাৎ বন্ধ করুন, পাওয়ার প্লাগ খুলে ফেলুন অথবা ব্রেকার অফ করুন।

    ৪। এসি পরিষ্কার করার সময় পাওয়ার প্লাগ খুলে ফেলুন অথবা ব্রেকার অফ করুন।


    আরও পড়ুন >> iBanking ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল ব্যাংকিং ।। Trust Bank


    ৫। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য কখনোই পাওয়ার কর্ড ধরে টানবেন না। সব সময় পাওয়ার প্লাগ ধরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। অন্যথায় পাওয়ার কর্ডটি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

    ৬। গৃহপালিত পশু অথবা গাছ সরাসরি এয়ারকন্ডিশনারের বাতাসের সামনে রাখবেন না। এতে পশু বা গাছের ক্ষতি হতে পারে।

    ৭। এসি যখন দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত হবে না তখন পাওয়ার প্লাগটি খুলে ফেলুন অথবা ব্রেকার অফ করুন। এতে অনাকাঙ্খিত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা থেকে এসি সুরক্ষিত থাকবে।

    ৮। এসিতে কোনো কীটনাশক বা দাহ্য পদার্থ স্প্রে করবেন না। এতে আগুন লাগতে পারে বা প্যানেলের বিকৃতি ঘটতে পারে।

    Inverter Technology


    এসির ভালো কার্যকারিতা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য করণীয়

    ১। রুমকে অতিরিক্ত ঠান্ডা করবেন না। এটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    ২। ASHRAE-এর নিয়ম অনুযায়ী রুমের তাপমাত্রা সর্বদা 25°C সেট করুন যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

    ৩। ঘরের ভেতরে বাতাসে অক্সিজেনের স্বল্পতা থাকলে বাহির হতে ঘরের ভেতর বাতাস চলাচল করতে দিন।

    ৪। ঘরে সমানভাবে বায়ু প্রবাহের জন্য ইনডোর ইউনিটের লুভার এবং ফেন সঠিকভাবে সমন্বয় করুন।

    ৫। পর্দা ব্যবহার করুন এসি ব্যবহারের সময় সূর্য বা অন্য কোনো তাপীয় উৎস থেকে যেন ঘরের ভেতরে সরাসরি তাপ প্রবেশ না করে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

    ৬। আউটডাের ইউনিটের উপর উঠবেন না বা এর উপর কিছু রাখবেন। এতে আউটডাের ইউনিটের যন্ত্রাংশের ক্ষতি হতে পারে।

    ৭। ড্রেন হােস পাইপ কোনাে কিছু দ্বারা ব্লক হয়ে আছে কি না তা চেক করুন। ড্রেন হােস পাইপ যদি অসম্পূর্ণ অথবা ব্লক হয় তবে এসি থেকে পানি পড়ে ঘরের পরিবেশ আসবাবপত্র নষ্ট হতে পারে।

    ৮। দাহ্য গ্যাস লিক হতে পারে এমন জায়গায় এয়ারকন্ডিশনার স্থাপন করবেন না। যদি গ্যাস লিক হয়ে এসির চারপাশে জমা হয় তবে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

    ৯। স্বাভাবিক কুলিং বা হিটিং না পেলে এসিটি বন্ধ রাখুন এবং সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

    ১০। অস্বাভাবিক অবস্থায় যদি এসি চালিয়ে রাখা হয় তবে কম্প্রেসার অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

     

    ইনডোর ইউনিট স্থাপন

    ১। ইনডাের ইউনিটের চারপাশে কমপক্ষে ২০০মিমি এবং ২১০০মিমি জায়গা থাকতে হবে।

    ২। দেয়ালটি ইনডাের ইউনিট ধরে রাখার মত যথেষ্ট মজবুত থাকতে হবে।

    ৩। বাতাসের ইনলেট এবং আউটলেট এর ফ্রন্টে কোন বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।

    ৪। ইউনিটের ফ্রন্ট প্যানেল সহজেই খোলার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    ৫। রুমের উচ্চতা যদি ২১০০ মি. মি. এর চেয়ে অনেক বেশি হয় সেক্ষেত্রে ইনডোর। ইউনিটটি ফ্লোর থেকে ২১০০ মি. মি. উচ্চতায় বসানো ভালো।


    আরও পড়ুন >> নামাজে আমরা যা বলি, তার অর্থ জানলে নামাজে অন্য চিন্তা মাথায় আসবে না

     

    ড্রেন হোস পাইপ স্থাপন

    ১। পাইপটি ৭০ মি.মি, গর্তে ঢুকান

    ২। যদি অতিরিক্ত হােস পাইপ প্রয়ােজন হয় যা ঘরের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে উক্ত পাইপে ভালােভাবে | ইলুলেশন টেপ দ্বারা পেঁচিয়ে দিতে হবে নতুবা অতিরিক্ত পাইপ ঘামতে পারে।

    ৩। ভালােভাবে ড্রেনেজের জন্য ড্রেন পাইপটি নিম্নমুখী থাকতে হবে। অন্যথায় পানির সাধারণ প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ড্রেনপ্যান ওভার ফ্লো হতে পারে।

    ৪। খেয়াল রাখতে হবে ড্রেন হােস লাগানাের সময় এটি কোনােভাবে যেন ব্লকড় বা বেন্ড না হয়ে যায়।

    ৫। ভেতরের ইউনিটের ইনলেট আউটলেট পাইপ বেন্ড করা সম্ভব।

    ৬। পাইপ বের করার সময় ডান বা বাম পাশের প্লাস্টিক পার্ট প্রয়ােজনে কাটা লাগতে পারেন সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে।

    ৭। এবার ইভাপােরেটর ইনলেট আউটলেট পাইপ ২টি নির্ধারিত পথে বের করে ইলেকট্রিক ওয়্যার টেপের  দ্বারা ভালােভাবে মুড়িয়ে ৭০ মিমি, গর্ত দিয়ে বের করতে হবে।

    ৮। এবার ইউনিটটি হ্যাঙ্গিং প্লেটের উপরের দিকের ২টি হুকে বেঁধে ডানে বামে নাড়িয়ে দেখতে হবে উক্ত

    হুকদ্বয় ভালােভাবে আটকানাে আছে কি না।

    ৯। এবার ইনডাের ইউনিটটি দেয়ালের দিকে চাপ দিয়ে নিচের হুক ২টির সাথে ফিক্সড করতে হবে। নিশ্চয়তার জন্য ভেতরের যন্ত্র ২টি নিচের দিকে টেনে দেখতে হবে তা ভালােভাবে আটকে আছে কি না।

     

    আউটডাের ইউনিট স্থাপনের স্থান নির্বাচন

    ১। আউটডাের ইউনিটের চারপাশে যথেষ্ট জায়গা থাকতে হবে।

    ২। স্থান এমন হতে হবে যেন ইউনিটের ভর নিতে পারে এবং কম্পন শব্দের মাত্রা বৃদ্ধি না করে।

    ৩। ফ্যানের স্বাভাবিক ঘূর্ণায়নে যেন বাতাস কোন বাধার সৃষ্টি না করে।

    ৪। দাহ্য গ্যাস না থাকে।

    ৫। বাতাসের প্রবাহতে বাধা সৃষ্টি না করে।

    ৬। যেন ড্রেন হওয়া পানি কোন সমস্যা সৃষ্টি না করে।


    Post a Comment

    Please do not enter any spam link in the comment box.

    Previous Post Next Post